মানবদেহে রক্ত কেবল হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালির মধ্যেই থাকে, কখনো বাইরে আসে না; একে বদ্ধ সংবহনতন্ত্র বলে। সারা দেহে রক্ত একবার ঘুরে আসতে মাত্র এক মিনিট বা তার চেয়েও কম সময় লাগে। একটি রক্তকণার যাত্রা ধাপে ধাপে অনুসরণ করো।
| বৈশিষ্ট্য | ধমনি | শিরা |
|---|---|---|
| উৎপত্তি ও সমাপ্তি | হৃৎপিণ্ড থেকে শুরু, কৈশিক জালিকায় শেষ | কৈশিক জালিকা থেকে শুরু, হৃৎপিণ্ডে শেষ |
| রক্তপ্রবাহের দিক | হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের দিকে | দেহ থেকে হৃৎপিণ্ডের দিকে |
| রক্তের প্রকৃতি | সাধারণত অক্সিজেনসমৃদ্ধ (ব্যতিক্রম: ফুসফুসীয় ধমনি) | সাধারণত CO₂সমৃদ্ধ (ব্যতিক্রম: ফুসফুসীয় শিরা) |
| প্রাচীর | পুরু, স্থিতিস্থাপক | কম পুরু, কম স্থিতিস্থাপক ও কম পেশিময় |
| ভেতরের নালিপথ | সরু | একটু চওড়া |
| কপাটিকা | থাকে না | থাকে |
| অবস্থান | সাধারণত দেহের গভীরে | সাধারণত ত্বকের কাছাকাছি |
ধমনি ও শিরা উভয়ের রক্তেই অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড মিশে থাকে, তবে মাত্রা ভিন্ন। ("অবস্থান" সারিটি সাধারণ জ্ঞান থেকে যোগ করা হয়েছে।)
(ক) রক্ত সরাসরি দেহের বিভিন্ন অঙ্গে গিয়ে পৌঁছে। (খ) রক্তবাহী নালির ব্যাসের পরিবর্তন করে দেহ কোনো বিশেষ অঙ্গে রক্তপ্রবাহের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। (গ) রক্ত বিভিন্ন অঙ্গে ঘুরে দ্রুত হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে।
পরিবহনতন্ত্রের দুই অংশ: রক্ত সংবহনতন্ত্র (হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালি) এবং লসিকাতন্ত্র (লসিকা, লসিকানালি ও ল্যাকটিয়েলনালি)।